২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:৫১

সৌরজগৎ ও সূর্য : সংক্ষেপে পরিচিতি|আশিকুর রহমান

আলোকিত নন্দিরগাঁও
  • আপডেট রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১,
  • 210 Time View

সৌরজগৎ ও সূর্য : সংক্ষেপে পরিচিতি

 

সুবিশাল বিস্তৃত এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানার কোনো শেষ নেই।ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে অনুমান করেও স্পষ্টভাবে কিছু বলা আসলেই অনেক কঠিন।তবুও জানার সর্বোচ্চ আসক্তি থেকে সুদীর্ঘ প্রাচীন কাল থেকে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রেক্ষাপটকে অবলম্বনে রেখে মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করেছে এবং কিছুটা সফলও হয়েছে।মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়েছে।আগেরকার সময়ে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির তত্ত্বটি স্থিতি মডেল দ্বারা ব্যাখ্যা করা হতো।এ মডেল অনুসারে মহাবিশ্বের কোনো সৃষ্টি বা শেষ নেই।এটি আগে যেমন ছিলো,বর্তমানেও তেমন আছে।কিন্তু এই ধারনা বা থিওরি এখন ভুল প্রমাণিত। বর্তমানে মহাবিশ্ব সৃষ্টির বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয় বিগ ব্যাং থিওরি বা মহাবিস্ফোরণ তত্তকে বিবেচনায় রেখে।বিগ ব্যাং থিওরি অনুসারে মহাবিশ্ব মিলিয়ন বিলিয়ন বছর পূর্বে একটি ছোট বিন্দুতে আবদ্ধ ছিলো। পরবর্তীতে এর মধ্যে মহাবিস্ফোরণ ঘটে এবং টুকরো টুকরো অংশ হিসেবে এগুলো,চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এবং এগুলো থেকেই আজকের মহাবিশ্বের গ্রহ,নক্ষত্র, ছায়াপথসহ অন্যান্য জ্যােতিস্ক সমূহের সৃষ্টি।সৃষ্টির এই ধাপসমূহের প্রত্যাকটির জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন সময়ের অতিক্রম ঘটেছে।বিগ ব্যাং থিওরি অনুসারে আরো ব্যাখ্যা করা হয় যে,মহাবিশ্বের বর্তমান গ্যালাক্সি গুলোর প্রত্যাকে একে অপর থেকে নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে দূরে সরে যাচ্ছে।এই আনুপাতিক হারটি তাদের অভ্যান্তরীণ দূরত্বের সূচক অনুসারে।ফলে, এ থেকে স্পষ্ট যে মহাবিশ্ব ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। মহাবিশ্বের কোটি কোটি বিলিয়ন নক্ষত্রসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি নক্ষত্র হচ্ছে সূর্য। সূর্যকে ঘিরে অন্যান্য গ্রহ,উপগ্রহ, উল্কা,ধুমকেতু ও গ্রহাণুপুঞ্জ নিয়েই সৌরজগৎ। আমাদের এই সৌরজগৎ আকাশগঙ্গা বা মিল্কওয়ে ছায়াপথে অবস্থান করছে।এই ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬০০০ আলোকবর্ষ দূরে সূর্যের অবস্থান। আকাশগঙ্গার মধ্যে সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি নক্ষত্র হচ্ছে প্রক্সিমা সেন্টরাই (৪.২৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত) এবং এর পরে রয়েছে আলফা সেন্টরাই যা সূর্য থেকে ৪.৩৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।

সৌরজগতের উৎপত্তিকে অনেক সময় নীহারিকা প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।এই প্রকল্পের মাধ্যমে ধারনা করা হয়,মহাবিশ্বের একটি অঞ্চলে এক বিশাল দৈত্যাকার আণবিক মেঘের মহাকর্ষীয় পতনের মাধ্যমের সৌরজগতের উদ্ভব ঘটে।এ পতনের ফলে সবচেয়ে বেশি ভর সঞ্চীভূত হয় যে অংশে তা তা থেকে সূর্যের সৃষ্টি হয়।এবং অন্যান্য অংশ থেকে গ্রহ,উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ এসবের সৃষ্টি হয়।সৌরজগতে সূর্য ছাড়াও রয়েছে আটটি গ্রহ যেমন: বুধ,শুক্র,পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ( ইন্টারন্যাশনাল এস্ট্রোনোমিকাল ইউনিয়নের সংজ্ঞা অনুসারে) এবং গ্রহগুলোর উপগ্রহ সমূহ,বামনগ্রহ,গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু, উল্কা ইত্যাদি।

সৌরজগতের মোট ভরের ৯৯.৮৬ ভাগ ভর একাই সূর্যের।সূর্য এক ধরনের আদর্শ গোলাকৃতির নক্ষত্র। এর কেন্দ্র ঘন আয়নিত প্লাজমা দ্বারা উত্তপ্ত, উপরিভাগ কিছুটা হালকা বা গ্যাসীয় অবস্থার।অন্যান্য সকল গ্রহ-উপগ্রহ সমূহের মত সূর্যও ঘূর্ণণশীল।এটি তার নিজ ছায়াপথের কেন্দ্রকে ফোকাস করে ঘুরছে।বিষুব অঞ্চলে এটি প্রায় ২৫ দিনে এবং মেরু অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৮ দিনে নিজ অক্ষের সাপেক্ষে ঘুরে। ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে সূর্য ৫৪০০০ আলোকবর্ষে ঘূর্ণায়মান। সূর্যের সম্পূর্ণ অংশে তার ঘূর্নণশীল বেগও এক নয়।এজন্য সূর্যের গতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জি-ওয়েব তরঙ্গ তত্ত্ব ব্যবহৃত হয়।জি ওয়েব তরঙ্গের বিষয়টি তখনই বিবেচনায় আনা হয়,যখন কোনো বস্তুর অভ্যান্তরীণ অংশসমূহে গতির সাম্যাবস্থায় ব্যতিক্রম ঘটে বা বাধা ঘটে।সূর্যের মোট ভরের চারভাগের তিনভাগই হাইড্রোজেন।হাইড্রোজেন ছাড়াও হিলিয়ামের পরিমাণও উল্লেখ্যযোগ্য পরিমানে রয়েছে। এছাড়া অল্পকিছু পরিমাণ ভারী মৌলসমূহ রয়েছে, যেমন: নিয়ন,কার্বন, লোহা ইত্যাদি। নক্ষত্রসমূহে এইধরনের ভারী মৌলসমূহের উপস্থিতি তাদের পূর্বতন প্রজন্মের নক্ষত্রসমূহে উপস্থিতি থেকে এইরকম চলে আসছে।সূর্যের মধ্যে প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন -হাইড্রোজেন বিক্রিয়া ঘটে এবং হিলিয়াম ও শক্তি উৎপন্ন হয়।এ শক্তি তাপ ও আলো হিসেবে মহাকাশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।সূর্যকে নিয়ে ধারণা করা হয় যে,প্রায় ৫০০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হওয়া এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটি তার জীবদ্দশায় বর্তমানে মধ্য পর্যায়ে এসে পৌঁছেছ। তার অভ্যান্তরীণ মোট জ্বালানির অর্ধেক পুড়িয়ে ফেলেছে।আরো হয়তো পাঁচ বিলিয়র বছর এভাবে বাকী জ্বালানী সমূহ দিয়ে চলবে।সব জ্বালানী শেষ হবার পরেও প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর তার বর্তমান অস্তিত্ব ঠিকে থাকবে। এর পরে হয়তো এটি একটি লোহিত দানব বা বিশালাকার দৈত্য দানবে পরিণত হবে। এবং এটি তার চারদিকের পৃষ্ঠের স্ফিতি বাড়িয়ে বুধ,শুক্র,পৃথিবী এইসব নিকটবর্তী গ্রহগুলোকে গ্রাস করে নিবে।পরবর্তিতে অস্তিত্ব থেকে এর পৃষ্টের উপরিভাগের পরিগমন ঘটবে এবং শূন্যে মিলিয়ে যাবে। কোনো কোনো বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুসারে,হয়তোবা এর ধ্বংসাবশেষ এর পর এর মধ্যে অবস্থিত ভারী মৌলসমূহ নতুন নক্ষত্র জগতের জন্ম দিবে।

 

লেখক: আশিকুর রহমান

শিক্ষার্থী,

এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড্ কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এই লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরও লেখা
Developed by PAPRHI
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo