২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:১৭

মাওলানা আব্দুস সাত্তার রহ. ছিলেন দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত প্রাণ

আলোকিত নন্দিরগাঁও
  • আপডেট বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১,
  • 158 Time View

মাওলানা আব্দুস সাত্তার রহ. ছিলেন দ্বীনের খেদমতে নিবেদিত প্রাণ

 

অতি পূর্বকাল থেকে এ এলাকা তথা নন্দিরগাঁও মানাউরা গ্রামকে আলোকিত করা ও এ এলাকার তরুণ-যুব সমাজ,ছাত্র সমাজের মধ্যে দ্বীনি ইসলামের বাণী পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে যেসকল বুজুর্গ ও আলেম ঊলামারা অবদান রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হচ্ছেন মরহুম মওলানা আব্দুস ছাত্তার সাহেব।অমায়িক, ভদ্র ও লাজুক স্বভাবের এই মওলানা সাহেবের তখনকার সময়ে এলাকায় খুব খ্যাতি ছিল।এখনো এলাকার বৃদ্ধ জোয়ার মানুষদের মুখে মাঝেমধ্যে উনার প্রশংসা শোনা যায়।আমার জীবনের অন্যতম সুভাগ্য যে,এই মহান ব্যাক্তির আদর, যত্ন ও স্নেহ ভালোবাসায় শৈশবকাল কাটাতে পেরেছি।ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতি তিনি খুবই সদয়বান ও মমতাময় ছিলেন।শিশুদের কান্না একদম উনার সহ্য ক্ষমতার বাহিরে।একাত্তরের যুদ্ধের সময়ের দুর্বিষহ অবস্থা, পারিবারিক দুঃখ দুর্দশা, দারিদ্রতা এসবের মধ্যেও প্রচুর সংগ্রাম ও পরিশ্রমের বিনিময়ে তিনি নিজেকে একজন আদর্শ, দ্বীনি খেদমতের বুজুর্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।এলাকার মানুষদের অসুখে-বিসুখে তিনি ধর্মীয় উপায়ে বিভিন্নভাবে খেদমত করতেন।তখনকার সময়ে বর্তমানের মত এভাবে প্রযুক্তিগত চিকিৎসা সুবিধা ছিলনা । রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিদেরকে ধর্মীয় প্রথা অনুসারে তিনি তখনকার সময়ের পানি পড়া,তাবিজ দেওয়া এসকল মাধ্যমে রোগ নিরাময়ে অবদান রাখতেন।

এলাকার মানুষদের নিকট ‘ছাতাই ম্যাসাব’ হিসেবে বহুল পরিচিত ছিলেন।কেউ কেউ হয়তোবা মওলানা সাহেব নামেও ডাকতেন।

 

এবার কথা বলি ঊনার ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে। মাওলানা সাহেবের ফুল নাম ছিল: মওলানা আব্দুস ছাত্তার, পিতা: মৃত মোঃ ছৈয়দ আলী, মাতা: ছকিনা বিবি।বিংশ শতাব্দীর ৩য় দশকের দিকে তৎকালীন সময়ের নন্দিরগাঁও গ্রামে (বর্তমানে মানাউরা গ্রাম,৭ নং ওয়ার্ড) জন্মগ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবনের ক্ষেত্রে,জালালপুরের গহরপুর রানাপিং মাদ্রাসা থেকে তিনি টাইটেল ডিগ্রী অর্জন করেন।পরবর্তী সময়ে তিনি ইসলামের খেদমত স্বরুপ মসজিদভিত্তিক ইমামতিতে যুক্ত হয়ে পড়েন।একটানা প্রায় চল্লিশ বছর তিনি ইমামতিতে যুক্ত ছিলেন।যেসকল মসজিদে তিনি ইমাম ও খতিব হিসেবে যুক্ত ছিলেন; যেমন: নন্দিরগাঁও পশ্চিমপাঁড়া জামে মসজিদ ( এই মসজিদে তিনি প্রায় আঠারো বছর ইমামতি করেন), সদর উপজেলার দুসকি গ্রাম জামে মসজিদ,লুসাইন জামে মসজিদ,কুরিখলা জামে মসজিদ ও অন্যান্য।

প্রায় পঁচিশ বছর বয়সে তিনি কোম্পানিগঞ্জের পূর্নছগাম গ্রামের মৃত হাফিজ উল্লাহ’র মেয়ে ও আলহাজ্ব কলিমুল্লাহ সাহেবের ভাতিজী আনোয়ারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।জীবদ্দশায় তিনি চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন। ছেলেদের নাম: ফখরুল ইসলাম,মাস্টার বদরুল ইসলাম,মোঃ শাহাবুদ্দীন,মাস্টার মিছবাহ উদ্দীন।মেয়েদের নাম: মোছাঃ রায়না বেগম,শাকেরা বেগম,মিনারা বেগম ও মোছাঃ হোসনা বেগম।চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম পেশায় কৃষক,মেজো ছেলে বদরুল ইসলাম নোওয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত,মোঃ শাহাবুদ্দীন বেসরকারি চাকুরিজীবি ও ছোটছেলে মাস্টার মোহাম্মদ মিছবাহ উদ্দিন নন্দিরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত। প্রায় সত্তর বছরোর্ধ এই মহান আলেমে দ্বীন ও বুজুর্গ ছাতাই ম্যাসাব ২০০৭ সালের ২২ মে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ আক্রান্ত অবস্থায় নন্দিরগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতেই ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)।

জানাজা শেষে উনাকে বাড়ির পূর্বপাশে পুকুরের পূর্বপাড়ে সমাহিত করা হয়।এখনো ঈদ-ঊল আযহা ও ঈদ-ঊল ফিতরসহ ধর্মীয় অন্যান্য পবিত্র দিনগুলো উপলক্ষে ঊনার ছেলেরাসহ শুভাকাঙ্ক্ষী আত্মীয়স্বজনরা উনার কবরের পাশে এসে কবর জিয়ারত ও মুনাজাত করে থাকেন।মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট প্রার্থনা যে,আমাদের এই আলেমকে যেন জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফৌরদাউসে আসীন করেন।আমীন।

 

লেখক: আশিকুর রহমান।

এই লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরও লেখা
Developed by PAPRHI
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo