২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ভোর ৫:০০

সমাজ দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতির নামই হচ্ছে মাদক – মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ 

আলোকিত নন্দিরগাঁও- Enlightened Nondirgow
  • আপডেট শুক্রবার, অক্টোবর ১, ২০২১,
  • 86 Time View

সমাজ দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতির নামই হচ্ছে মাদক

– মুহাম্মাদ মামুনুর রশীদ

 

نحمده ونصل علي رسوله الكريم اما بعد

আধুনিক অগ্রসর সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে জীবন বিনাশী নীলনেশা মাদকদ্রব্য। যার ফলে দেশ ও জাতি ধংশের অতল গহবরে তলিয়ে যাচ্ছে।এ মাদকদ্রব্য ও নেশার জন্য সারা পৃথিবী আজ শংকিত।মাদকদ্রব্য হচ্ছে সেবন বস্তু।যা সেবনের ফলে স্নায়বিক বৈকল্যসহ নেশার সৃষ্টি হয়।বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করাকেই মাদকাসক্ত বলে। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (WHO) এর মতে মাদকাসক্তি হচ্ছে, চিকিৎসা গ্রহণযোগ্য নয় এমন দ্রব্য ক্রমাগত বিক্ষিপ্তভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা এবং এসব দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।নিম্নে মাদকদ্রব্য ও নেশা জাতীয় বিষয় নিয়ে কোরআন,হাদিসের আলোকে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।মাদকদ্রব্য এবং নেশা বর্তমান সমাজে বেশিরভাগ প্রভাবিত করেছে যুব-সমাজকে।মাদকদ্রব্য এবং নেশার সহিত জড়িত হয়ে মানুষ কিভাবে যে ধংশের দিকে এগিয়ে যায় সে নিজেও বলতে পারে না।মাদকাসক্তিতে আসক্তদের ভালোবাসা দিয়ে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আল্লাহ পাক মাদক এবং নেশাকে ইচ্ছা করলে একবারেই নিষিদ্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু আরবদের রক্তে মাংসে প্রবেশ করা অবিচ্ছেদ্দ পানীয় ছিল মাদক এবং নেশা ছিল তাদের আনন্দ দানের একচ্ছত্র বিষয়। তাই আল্লাহ তায়া’লা ক্রমে ক্রমে মাদকদ্রব্য ও নেশাকে নিষিদ্ধ করেছেন। প্রথম পর্যায়ে আল্লাহ ইরশাদ করেন।

يسءلونك عن الخمر والميسر -قل فيهما اثم كبير ومنافع للناس واثمهما اكبر من نفعهما-

অর্থঃলোকেরা আপনার নিকট মদ ও জোয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবে। আপনি তাদের বলুন এতে রয়েছে বড় গুনাহ ও মানুষের কিছু উপকার,এবং সামান্য উপকারের চেয়ে গুনাহ বড়।

সূরা আল বাকারাহ,আয়াত ২১৯

 

উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে,মদ ও জোয়া এগুলো বড় ধরনের গুনাহ।মানুষের কিছু উপকার ও রয়েছে। তবে উপকারের চেয়ে গুনাহের দিকটা বড়।নিম্নে মদ পানের কিছু উপকারিতা বর্ণনা করছি।

মদ বা মাদক জাতীয় দ্রব্যপানে সাময়িক আনন্দ লাভ হয়।সাময়িকভাবে শারীরিক শক্তিও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এবং শরীরে কিঞ্চিৎ লাবন্য সৃষ্টি হয়।

কিন্তু এগুলো সাময়িক। আর এই সাময়িক উপকারের চেয়ে অপকারের দিকটা বেশি।নিম্নে অপকার গুলো উপস্থাপন করছি।

উপরিউক্ত নগন্য উওপকারের চেয়ে ক্ষতির দিকটা বিস্তর এবং গভীর।মদের পতিক্রিয়ায় ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।চেহারা বিকৃত হয়।স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। সামগ্রিকভাবে শারীরিক সক্ষমতার উপর মারাত্মক আঘাত সৃষ্টি করে।

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে –

يا ايها الذين امنوا لا تقربوالصلاة وانتم سكٰرا

আল্লাহ তায়া’লা বলেন, হে ঈমানদারগণ তোমরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় নামাজে নামাজের যেও না।

সূরা নিসা, আয়াত ৪৩

উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহ আরও কঠোর হয়ে বলেন যে,তোমারা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় নামাজের কাছে যেও না।অর্থাৎ নেশাগ্রস্থ অবস্থায় তোমরা যা করো এবং যা বলো তা তোমরা অচেতন অবস্থায়ই বলো।এজন্য নেশাগ্রস্থ অবস্থায় নামাজে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে মদ, জুয়াসহ সকল মাদকদ্রব্য ও নেশা জাতীয় বিষয়কে হারাম ঘোষণা করে আয়াত নাজিল হয়।ইরশাদ হচ্ছে –

 

يايهاالذين امنوا انماالخمر والميسر والانصاب والازلام رجس من عمل الشيطان فجتنبوه لعلكم تفلحون (٩٠)انما يريد الشيطان ان يوقع بينكم العداوة والبغضاء في الخمر والميسر ويصدكم عن ذكر الله وعن الصلاة فهل انتم منتهون(٩١)

 

অর্থঃহে ঈমানদারগণ নিশ্চয়ই মদ,জুয়া,প্রতিমা,ভাগ্য নির্ধারক তীর সমূহ শয়তানের কাজ।তোমরা এসব থেকে বিরত থাকো, যদি তোমরা সফলকাম হতে চাও।নিশ্চয়ই শয়তান সঞ্চারিত করতে চায় শত্রুতা এবং বিদ্বেষ তোমাদের মধ্যে মদ এবং জুয়ার মাধ্যমে। এবং তোমাদেরকে বিরত রাখতে চায় আল্লাহর জিকর ও নামাজ থেকে। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।

সূরা মায়িদা, আয়াত ৯০,৯১

 

উপরিউক্ত আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে মদ এবং জুয়াকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। সাথে সাথে প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক তীর সমূহ হারাম।

এমনকি একথাও বলা হয়েছে শয়তান মদ ও জুয়ার মাধ্যমে একে ওপরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে চায়।তাই আমরা সবাই এগুলো প্রত্যাহার করবো ইনশা আল্লাহ।

মদ এবং জুয়া হারাম হওয়ার কারণ শুধু পাপই নয়। বরং এর পিছনে আরও অনেক কারণ নিহিত আছে। নিম্নে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো।

 

নৈতিক অবক্ষয়ঃ

মাদকাসক্ত ব্যাক্তির নৈতিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে সে হয়ে উঠে নৈতিকতা বিরুধী।বিশেষত তরুণ সমাজের উপর নেমে আসে ভয়াবহ পরিণতি। নৈতিকতা বিরুধী কোন কর্মকাণ্ড করতে সে দ্বিধাবোধ করে না।সমাজে নানাবিধ অপকর্ম করে বেড়ায়।

 

সামাজিক অবক্ষয়ঃ

মাদকাসক্ত ব্যক্তি সমাজে নানাবিধ অপকর্ম করে। যার ফলে সৃষ্টি হয় সামাজিক অবক্ষয়। অনেক সময় দেখা যায় মদের টাকা না পাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে।যার ফলে সৃষ্টি হয় চুরি, ডাকাতি,ছিনতাই,খুনসহ নানা অপকর্ম।

 

অর্থনৈতিক অবক্ষয়ঃ

মাদকাসক্তির কুপ্রভাবে সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক অবক্ষয়। অনেক মূল্যবান জিনিস অল্প মূল্যে বিক্রি করে মাদক সেবন করে।তাই মাদকাসক্তি অর্থনৈতিকভাবে ও অনেক ক্ষতি সাধন করে।

এগুলো থেকে সমাজ ও দেশেকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে সেচ্ছাসেবী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।মাদকাসক্তদের ঘৃণা করে নয় বরং ভালোবাসা দিয়ে বুঝিয়ে নিয়ে আসতে হবে সোনার পথে। নিম্নে মাদকাসক্তি রোধের উপায় নিয়ে আলোকপাত করছি।

 

মাদকাসক্তি রোধের উপায়ঃ

মাদক সামাজিক ব্যাধিতে রুপলাভ করেছে।সুতরাং একে প্রতিরোধ করতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাজের শিক্ষিত, বিবেকবান, চিন্তাশীল লোকদের সেচ্ছাসেবী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের এই ভয়াবহতা থেকে বিশেষত আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে।ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ছাত্রদের লেখা পড়া শেষে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বেকারত্ব দূর করতে হবে। বেকারত্ব দূর না হলে সমাজে নানাবিধ অপকর্মের সৃষ্টি হয়। এদিকে সরকার অবিভাবক,শিক্ষকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবেই সম্ভব হবে এ দেশ ও জাতীকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা।

এই লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ধরনের আরও লেখা
Developed by PAPRHI
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo